গত বছরের প্রথমদিকের ঘটনা, অজানা এক ভাইরাস কোভিডে বিপর্যস্ত চীন। এরপর সেটা ছড়িয়ে পড়তে থাকলো বিশ্বে। সবাই ভাবলো কোভিড চীন-ইউরোপ-আমেরিকার জন্য আসছে, বাংলাদেশে আসবে না।। মার্চের মাঝামাঝি, কোভিডে বিপর্যস্ত হওয়ার পথে পুরা বিশ্ব, WHO অতিমারী ঘোষণা করলো কোভিডকে। বাইরের দেশগুলাতে এই অজানা ভাইরাস যে কতোটা প্রাণঘাতী হতে পারে, তা দেখতে থাকলো মানুষজন।
সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এমন আশঙ্কা করেই ১৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বাতিল করে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। দেশে কোভিড ইনফেক্টেড ট্রেসড হলো। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ হতে থাকলো। আক্রান্ত আর মৃত্যু সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকলো, বন্ধ গার্মেন্টসের একের পর এক অর্ডার ক্যান্সেল হতে থাকলো, এক্সপোর্ট প্রায়ই বন্ধ হয়ে গেলো। অর্থনীতি শেষ হয়ে যাবে যাবে এই অবস্থা। এসব দেখে প্যানডেমিকের শুরুতে অনেকেই ধারণা করলো এই দেশের মানুষজন মরে রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকবে, গার্মেন্টসনির্ভর অর্থনীতি কলাপস করে যাবে। দুর্নীতিতে ভরা প্রশাসন লুটপাট করে বাইরে চলে যাবে, খাদ্যভাবে দুর্ভিক্ষ হবে। কিন্তু সেই সময়ে আশীর্বাদ হয়ে আসলো বাজেটে ঘোষণা করা রেমিট্যান্স এর ২% ইনসেনটিভ, রেমিট্যান্স ফ্লো একের পর এক রেকর্ড ব্রেক করলো। অর্থনীতি কোনোভাবে দাঁড়িয়ে রইলো এর উপরে, নতুন বাজেট ঘোষণা হলো। ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা আসলো, সবকিছু আস্তে আস্তে খুলে দিলো। মেগা প্রজেক্টগুলো আবার রানিং হলো, অর্থনীতি আর জীবনযাত্রা স্মুথ হতে শুরু করলো।
প্যানডেমিকের শুরুর কথা, এই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে কতোটা ভঙ্গুর তা সবাই দেখতে থাকলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্টাপাল্টা বকে গেছে, মানুষজন তার পদত্যাগ চেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমানে পলিটিক্যাল উদ্দেশ্যে গুজব ছড়িয়েছে, সেইটাতে ভর করে সরকার পতনের চেষ্টাও হইসে। মানুষজন স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছামতো যা খুশি করসে।
এতো এতো খারাপের মাঝেও একটা মানুষ নিজের চারপাশে থাকা অজস্র চাটুকারের মাঝেও নিজ প্রজ্ঞায় আর দুরদর্শীতায় সময়মত এবং জায়গামত বিনিয়োগ করে ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করলো। দেশে ভ্যাকসিন আসলো, বিশ্বের অনেক দেশের আগেই সেই ভ্যাকসিন আপামর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো। সবাই ভাবলো খুব বাজে একটা সিচুয়েশান হবে, সব লুটপাট করে নিয়ে যাবে ওমুক-তমুক... হ্যান-ত্যান। কিন্তু আজ পর্যন্ত খুব সম্ভবত কোনো ঝামেলা ছাড়াই একটা সিস্টেম্যাটিক ওয়েতে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ সেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করলো। এই ভ্যাকসিনেশান এক্টিভিটি যে একটা তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য কত বড় একটা পলিটিক্যাল এবং লিডারশীপ মাইলস্টোন, সেটা ধারণারও বাইরে। সবকিছু ছাপিয়ে সেই দেশটা উন্নয়নশীল দেশের তকমা পেলো, এসডিজি-সিডিপির সবগুলো সূচকে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখালো। জাতিসংঘ লোয়ার ইনকাম কান্ট্রি- যারা তাদের মানুষের জীবনযাত্রার মান আর অর্থনীতি সামনে নিয়ে যেতে চায় তাদেরকে সেই দেশটার ডেভেলপমেন্ট ট্র্যাক ফলো করতে বললো।
আর, একসময়ের 'তলাবিহীন ঝুড়ি' তকমা পাওয়া দেশটাকে ট্র্যাকে ধরে রেখে এতসব উন্নয়ন-অর্জন সম্ভব হয়েছে যে মানুষটার জন্য, সেই মানুষটা আমাদের প্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা...
প্রিয় নেত্রী ভ্যাক্সিন গ্রহণ করায় আপনাকে অভিবাদন। আপনি সবসময় সুস্থ্য থাকেন, দীর্ঘায়ু হোন। খুব বেশি না হলেও এই দেশটার আপামর জনসাধারণের আশা আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর আপনি। আপনার চোখেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে মানুষগুলো...
আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা সবকিছুর জন্য, সৃষ্টিকর্তা আপনার ভালো করুক... জয় বাংলা! <৩
Let's stay in the Loop?
I'll send you updates on new blogs only. No spam!